
আলাঁ বাদিউ: মনোবিজ্ঞান কী?
মিশেল ফুকো: আমার মতে, মনোবিজ্ঞানকে আমাদের বিজ্ঞানের বিষয় হিসেবে না ভেবে বরং একটি সাংস্কৃতিক রূপ হিসেবে ভাবা উচিত। এটি এমন কিছু অতীত অভিজ্ঞতার অংশ, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি যার সাথে অনেক আগে থেকেই সুবিদিত বা পরিচিত। এর মাঝে রয়েছে আত্ম-স্বীকারোক্তি, শাঠ্য তর্ক, সংলাপ, চিন্তাপদ্ধতি (discourse) এবং যুক্তিতর্ক –যেগুলোর চর্চা মধ্যযুগের নির্দিষ্ট কিছু সামাজিক পরিসরে গড়ে উঠেছিল। আবার সপ্তদশ শতাব্দীর অভিজাত শ্রেণির প্রেমনিবেদনসহ অন্যান্য আচরণের কাঠামোবদ্ধ প্রকাশেও এর প্রচলন ছিল।
আলাঁ বাদিউ: সাংস্কৃতিক রূপ হিসেবে মনোবিজ্ঞান ও দর্শনের মাঝে কি কোনো অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক সম্পর্ক রয়েছে? আর দর্শন কি আদতেই একটি সাংস্কৃতিক রূপ?
মিশেল ফুকো: আপনি এখানে দুইটি প্রশ্ন করছেন:
১. দর্শন কি একটি সাংস্কৃতিক রূপ? আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, আমি নিজেকে খুব একটা দার্শনিক মনে করি না, তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার বা সিদ্ধান্ত দেয়ার অবস্থানে আমি নেই। তবে আমার মনে হয়, এটিই এখন বিতর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়–হয়তো দর্শনই সংস্কৃতির সেই সর্বজনীন রূপ, যার মাধ্যমে পাশ্চাত্য বাস্তবতাকে আমরা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে পারি।
২. সাংস্কৃতিক রূপ হিসেবে মনোবিজ্ঞানের সঙ্গে দর্শনের সম্পর্ক কী? আমার মনে হয়, আমরা এমন একটি সংঘাতের প্রতি দৃষ্টিপাত করছি যা গত পাঁচশ বছর ধরে দার্শনিক ও মনোবিজ্ঞানীদের একে অপরের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। এই দ্বন্দ্ব আজ নতুনভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ঘিরে যেসব প্রশ্ন উঠে আসছে, তার প্রেক্ষিতে।
আমার মতে, আমরা এটা বলতে পারি যে : প্রথমত, মনোবিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞানের মাধ্যমে ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে মানবিকীবিদ্যার সাথে দর্শনের সম্পর্কের জটিলতা বিদ্যমান। এখন দর্শন ও মানবিকীবিদ্যার এ জটিলতা থেকে আমরা কী বুঝতে পারি? কেউ কেউ দাবি করতে পারেন যে, পাশ্চাত্য জগতে দর্শন—অদৃশ্য এবং নিজ চেতনা ও পদ্ধতিগত অস্পষ্টতায়—এমন একটি অস্পষ্ট ও অকার্যকর সীমানা নির্ধারণ করেছিল, যে সীমানাকে সেটি ‘আত্মা (soul )’ বা ‘চিন্তা (thought)’ বলে অভিহিত করেছিল।…