
সঙ্গীত চর্চায় মুসলমান
ধার্মিক মুসলমানগণ প্রায় কোন সময়েই সঙ্গীতকে প্রীতির চক্ষে দেখেন না। তথাপি দেখিতে পাই, উচ্চকণ্ঠে সুললিত স্বরে আজান দেওয়া হয়, কেরাত করিয়া সুমিষ্ট স্বরে কোরাণ শরিফ পাঠ করা হয়। ইহা ছাড়া পরমার্থ সম্বন্ধীয় গজল, কাওয়ালী প্রভৃতির অস্ত নাই। মিলাদ শরিফে যে প্রকারে দরূদ পড়া হয়, এবং হজরতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য যে ওজনে সমস্বরে ‘সালাম আলায়কা’ পড়া হয়, তাহাকে নিশ্চয়ই সঙ্গীত আখ্যা দেওয়া যাইতে পারে। শাস্ত্রকারেরাও আমোদে নিয়ম-নাস্তি হিসাবে বিবাহের সময় যে বাজাইয়া গান করা জায়েজ রাখিয়াছেন। ইহা হইতে অন্ততঃ এটুকু প্রমাণ হয় যে, নানারূপ সামাজিক ও ধর্মনৈতিক বিধি নিষেধের ভিতরেও অনুষ্ঠানপ্রিয় মুসলমানগণের স্বাভাবিক সঙ্গীত স্পৃহা চরিতার্থ করিবার যৎসামান্য পন্থা আছে।
আরব সংগীত যা আন্দালুসীয় সংগীতের পথিকৃৎ
স্পেনে এক অপূর্ব্ব সমন্বয়-কার্য্য সংঘটিত হয়। সেখানকার সঙ্গীত বিদ্যালয়গুলিতে যে কেবল আরব-পারস্য পদ্ধতি অনুসারেই শিক্ষা দেওয়া হইত, তাহা নহে। লুপ্তপ্রায় গ্রীক পদ্ধতির পুনরুদ্ধার করিয়া তাহাও ঐ সকল বিদ্যালয়ে শিক্ষা দেওয়া হইত। কালক্রমে উভয় পদ্ধতিই কিছু কিছু পরিবর্তিত হইয়া এক অভিনব পদ্ধতির সৃষ্টি হয়। আজ্জ পর্য্যন্ত পূর্ব আরবে প্রাচীন প্রথা প্রচলিত থাকিলেও স্পেন, আলজিরিয়া, টিউনিস, মিসর, প্রভৃতি স্থানে এই মিশ্র পদ্ধতি অনুসারেই গান গাওয়া হইয়া থাকে। আজও মাদ্রিদের রাজপথে আরব-পারস্য গ্রীক-রীতির তানমূলক গান যথেষ্ট শোনা যায়, তাহা বোধ হয় খৃষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গান। এরপর ইউরোপীয় সঙ্গীতে অনেক পরিবর্তন, অনেক উন্নতি হইয়াছে। তাহাদের এখন আর তাল প্রধান (melodic) সঙ্গীত নাই। এখন তাহা সংযোগ-প্রধান (harmonic music) | এমন কি, পূর্ব্বকালে M= যে তান-প্রধান গ্রেগরীয় সঙ্গীত (Gregorian Music) শুনা যাইত, তাহাও এখন সংযোগ-প্রধান করিয়া গাওয়া হয়। প্রাচীন রোমীয়দের আটটি ‘গ্রাম’ বা স্বরাস্তর প্রকাশের ধারা ছিল। গ্রীক ও আরবেরা চৌদ্দটি “গ্রাম” ব্যবহার করিতেন।….


