মুসলমান শাস্ত্রে চিত্র ও ভাস্কর শিল্প-চর্চ্চা নিষিদ্ধ হইয়াছে কারণ উভয়ই পৌত্তলিকতা ও ঈশ্বরত্ব দাবী করার পক্ষে সহায়— ‘divinity presumption ‘-এ এর পরিপুষ্টি সাধন করে। শাস্ত্রের বিধানানুসারে শিল্পী ও শিল্পানুরাগী ব্যক্তিমাত্রই নরকে যাইবার পথ প্রশস্ত করিয়া লয়। ইসলাম ধর্ম্মে প্রথম প্রচারের দিনে ঘোর পৌত্তলিকতাপূর্ণ আরব দেশে এই নিষেধ বাণী ঘোষণা করা হইয়াছিল। জগতে শ্যস্তি স্থাপনের পর মানুষের স্বাভাবিক মনোবৃত্তির ক্রমবিকাশের সঙ্গে তখনকার এই বিধির সংঘর্ষ উপস্থিত হইল।
কালে কালে যুগে যুগে মানব চিত্তের অদম্য উৎসাহ ও মানবাত্মার আকুল আবেদন শাস্ত্রের বাধা অতিক্রম করিয়া চিত্র ও স্থাপত্য শিল্পে পুর্ণ প্রকাশ পাইল। খৃষ্টীয় নবম শতাব্দীতে বাগদাদ শহরে যখন ইসলাম ধর্ম্মের পূর্ণ প্রতিভা বিরাজমান ছিল তখনও আব্বাস বংশীয় খলিফাগণ ইসলামের রক্ষক ও পরিপোষক হইয়াও চিত্র-চর্চ্চা করিয়াছিলেন। তাহাদের আদেশে রাজ দরবারে এ্যালবাম তৈয়ার করা হইয়াছিল। তবে শাস্ত্রের জয় হইয়াছিল ভাস্কর্য্যের দিক দিয়া। সব সময় সব জাতির মুসলমান অতি প্রাচীনকাল হইতেই ভাস্কর শিল্প হইতে দূরে রহিয়াছিল, কিন্তু চিত্র ও স্থাপত্য শিল্পে মুসলমান উন্নতির পারাকাষ্ঠা দেখাইয়া জগতে বরণীয় হইয়া রহিয়াছে। জ্ঞানে মহীয়ান শক্তিমান মুসলমান সম্রাটগণই প্রথম শাস্ত্রের বিধি লঙ্ঘন করিলেন, শাস্ত্রের প্রকৃত অর্থ, নিগূঢ় উদ্দেশ্য বুঝিয়৷ লইলেন। ধর্ম্ম আর মানুষের স্বাভাবিক মনোবৃত্তি উভয়কেই একত্র যুক্ত করিলেন। কলা ও শাস্ত্র যে পরস্পর বিরোধ নহে, ধর্ম্ম ও আর্ট যে বিভিন্ন গতিতে প্রবাহিত হয় না, ইহাই তাহারা বুঝাইয়া দিলেন।…

মোগল যুগে চিত্র চর্চ্চা
মুসলমান শাস্ত্রে চিত্র ও ভাস্কর শিল্প-চর্চ্চা নিষিদ্ধ হইয়াছে কারণ উভয়ই পৌত্তলিকতা ও ঈশ্বরত্ব দাবী করার পক্ষে সহায়— ‘divinity presumption ‘-এ

দর্শন ও মনোবিজ্ঞান: ফুকো-বাদিউ আলাপন
আলাঁ বাদিউ: মনোবিজ্ঞান কী? মিশেল ফুকো: আমার মতে, মনোবিজ্ঞানকে আমাদের বিজ্ঞানের বিষয় হিসেবে না ভেবে বরং একটি সাংস্কৃতিক রূপ হিসেবে

সতের শতকে বাঙালী মুসলমান: ডাচ সার্জনের ডায়েরি
আমি আমার সাধ্যমত বর্ণনা করতাম—আমাদের সহর, বাড়ীঘর, গীর্জা, মিনারগম্বুজ, দোকানবাজার, জিনিষপত্র, বাবসা, জ্ঞানবিজ্ঞান আর নৌবহরের কথা, আমষ্টার্ডাম সহর আর সেখানে

সঙ্গীত চর্চায় মুসলমান
সঙ্গীত চর্চায় মুসলমান ধার্মিক মুসলমানগণ প্রায় কোন সময়েই সঙ্গীতকে প্রীতির চক্ষে দেখেন না। তথাপি দেখিতে পাই, উচ্চকণ্ঠে সুললিত স্বরে আজান